অসমাপ্ত ভালোবাসা
সেদিন আমার ভিতর, আমার বাহির আচমকা কেপে উঠল। সেই আচমকা কম্পন এখন আর উঠে না। তোমার স্মৃতিতে আমার আর ঘুম ভাঙ্গে না। আজ দূরত্বই বলে দেয় তুমি আমার নও। বৃত্ত স্পর্শ করার দুই কন্ডিশনই এখন নাগালের বাইরে।
😂
কেন্দ্রদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব ব্যাসর্ধদ্বয়ের সমষ্টির সমান এবং কেন্দ্রদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব ব্যাসর্ধদ্বয়ের পার্থক্যের সমান; এ দুই সম্পর্ক ব্যতিরেকে দুইটি বৃত্ত কখনেই যথাক্রমে বহিঃস্থ ও অন্তঃস্থ ভাবে স্পর্শ করতে পারেনা{Lows of higher Math}।
✋
হুমায়ূন আহমেদ রসায়নের ছাত্র ছিলেন। অন্যান্য লেখকরা উপন্যাস কিংবা ভালোবাসার গল্প লিখতে রসায়ন প্রয়োগ করেননি তা নয়। বরং, ভালোবাসায় রসায়ন না থাকলে তা কেমন জানি শুষ্ক-নিরানন্দ গণিতের মতোই মনে হয়। লাভ স্টোরিতে তাই গণিতের শুষ্ক ফর্মুলা কেউ এপ্লাই করতে চাইনা।
কিন্তু একটা জিনিস খেয়াল করে দেখলাম, না আমার গল্পে উপরের দুইটি সূত্রই যথাযথ ভাবে কার্যকর ও প্রতিষ্ঠিত।
💘
গন্তব্য পাকুন্দিয়া। কর্দমাক্ত ভেজা রাস্তায় অটো-রিক্সা চলেছিল ধীরে ধীরে। ছোট ছোট মেঘের খন্ড গুলো এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করছিল। যেন আকাশ ভেঙ্গে এখনি বৃষ্টি নামবে অঝোর ধারায়। কি এক ভূতে চাপল জানি না। তেমার হাতের রিংটা ছুড়ে দিলাম ঐ ডুবায়। তোমার কি মনে পড়ে ?
যাজ্ঞে, এসব স্মৃতিতে নস্টালজিক হতে চাই না। সময়ের হাত ধরে যা হতে চলছে চলো তাই নিয়ে পাড়ি জমায় গল্পের শেষে, রুপ কথার দেশে।
😡
মহাখালী বাস টার্মিনাল। এনা পরিবহন অপেক্ষা করছে। সময় হলেই ছেড়ে দিবে বাস। বেস্ট অব লাক বলে তার পাশের সীট টা ছেড়ে নেমে পড়লাম। তার চৌকশ দৃষ্টি পড়ে আছে আমার দৃপ্ত পায়ের হেটে চলায়। নিচে নেমে তার জানালা বরাবর এসে দাঁড়ালাম। জানালা দিয়ে সে তাকিয়ে রইল; যেন নিঃশব্দে কত কথা বলে যাচ্ছে চোখে চোখ রেখে। হালকা শীত ছিল। আমার পরামর্শেই নন-এসি টিকেট নেওয়া হয়েছিল। যাইহোক, হাত টা বাড়িয়ে টাটা দেওয়ার একটা দৃশ্য দেখতে দেখতে বন্ধ হয়ে গেল জানালার কালো গ্লাসটা।
সেই এক শুভ দিনে তার যাত্রা শুরু হল ময়মনসিংহের উদ্দেশে।
💘
মুক্ত মঞ্চেরর উত্তর পূর্ব পাশে ছিম ছিম নিরবতায় একলা একা বসেছিলাম। মৃদু বাতাস বয়ছে। হালকা বাতাসে চুল গুলো উড়ছিল বেশ। চশমাটা পাশে রেখে এক দৃষ্টিতে পানিতে থাকিয়ে আছি। কিছুক্ষণ পর এক গুছো চুল সহ একটা নরম হাত আমার কাঁধের উপর এসে পড়ল। কোন কিছু না বলে হঠাৎ যেন মামা বাড়ির আবদার করে বসলো। "আমায় বাড়ি নিয়ে যাবে"?
কখন? কার বাড়িতে? এসব প্রশ্ন না করে জানতে চাইলাম 'আমি যে এখানে আছি তুমি জানলে কি করে'!
মুচকি হাসিতে তার সহজ শিকারোক্তি- আজই প্রথম 'বেগম খালেদা জিয়া' হুস্টেলের ছাদে উঠলাম। আর সেখান থেকে তোমার লাল জুতো আর পাশে রাখা চশমাটা স্পষ্টই দেখা যাচ্ছিল। তাছাড়া স্নিগ্ধ, নির্মল বায়ুর প্রতিটা কণা তোমার গাঁয়ের সু-বাতাস আমায় সুরসুরি দিচ্ছিল। ছাদে বসে পাঁচ মিনিটের বেশী সহ্য করতে পারলাম না। আচ্ছা এসব বাদ। আমায় বাড়ি নিয়ে যাবে কিনা উত্তর পেলাম না কিন্তু! অতীতের এসব স্মৃতিচারণ করতে করতে বাসটা হারিয়ে গেল দৃষ্টিসীমার আড়ালে।
💔
মনে হচ্ছে তুমি কোথাও হরারিয়ে যাচ্ছ। হারিয়ে যাচ্ছ দূর ঐ অজানায়। আজ মনের দৃশ্যপটে হাজারো স্মৃতিরা খেলা করে।
অনুভূতির দেয়ালে বিধে আছে স্মৃতির গুলোর আর্ত চিৎকার।
BAU (বাংলাদেশ এগ্রিকালচার ইউনিভারসিটি)-এর এক্সাম শেষ হল। ছোট্ট একটা টেক্সট পেলাম "Xm vlo hyse, chance somoyer bepar".
আনন্দের এই টেক্সট খানা আমার ভিতরে একটু দাগ কাটল; মনে হল অদূর ভবিষ্যৎ কে জানান দিল।
👎
রেজাল্ট পাবলিশ হল। পিসিতে পিডিএফ ফাইলটা ডাউনলোড দিলাম। ১ম পেইজ,
২য় পেইজ, তৃতীয় পেইজের প্রথম দিকেই কাঙ্ক্ষিত নাম টা চোখে পড়ল। আমার ভিতর, আমার বাহির আচমকা কেঁপে উঠল। আমি যেন আমার আহ্লাদির নামটা দেখছি না, কুখ্যাত জ্যোতিষীর ন্যায় আমার অদূর ভবিষ্যৎ কে দেখছি পিডিএফের ঐ তিন নাম্বার পেইজে।
💘
তার পাশের সিট টা ছেড়ে যখন উঠে আসছিলাম তখন ই মনে হচ্ছিল এই সীটটাতে করে আমার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এক সাথে আবেদন করা সত্তেও আমার এডমিট আসেনি।
BAU তে যেন চান্স পাওনি, তোমার-আমার দূরত্বই বাড়িয়ে তুললে। এসব ভেবে ভেবে ছাদে চলে গেলাম এক প্যাকেট আকিজ বিড়ি নিয়ে!
�
আজ জানা দূরত্বেই লুকিয়ে আছ আামার হাতটি ছেড়ে। আর কখনোই আসবে না শত মানুষের ভিড়ে, নরসুন্দার তীরে।
আর কখনো বসা হবে না মুক্তমঞ্চের উত্তর পূর্ব পাশে। আর কখনো ঘুরতে যাওয়া হবে না
বিকেলের পড়ন্ত রোদে পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটে।
💔
সেদিন আমার ভিতর, আমার বাহির আচমকা কেঁপে উঠল। সেই আচমকা কম্পন এখন আর উঠে না। তোমার স্মৃতিতে আমার আর ঘুম ভাঙ্গে না। আজ দূরত্বই বলে দেয় তুমি আমার নও এবং বৃত্ত স্পর্শ করার দুই কন্ডিশনই এখন বেমানান। শুধুই বেমানান।





















