Here you can find different useful articles

"চিঠিটা তার পকেটে ছিল 
ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা ”
ভাষা কেড়ে নেয়ার অপচেষ্টা প্রতিহত করেতে বুকপকেটে চিঠিটা রেখে সেদিন ওরা রাজপথে নেমে এসেছিল বলেই আজ শুদ্ধ বাংলায় লিখতে ও বলতে পারছি। 
এই ইতিহাস পড়লে গাঁয়ের লোম কার না দাঁড়ায়? তখন ভাবতাম, আমি যদি ঐ সময়ে থাকতাম তাদের সাথে আমিও যোগ দিতাম! মায়ের ভাষা রাক্ষা করার নৈতক দায়িত্বটা পালন করতাম!
যুদ্ধাহত যুবকের পকেটে রক্তে ভেজা চিঠিটা সংগোপনে পকেটেই রয়ে যায়। শুধু কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে নিমিশেই খালি হয় চির আরাধ্য মায়ের বুকখানি। সযত্নে মমতায় আগলে রাখা প্রতিটা মা-ই চাই ছেলটা ভালো থাকুক, পড়ালেখা করুক।
ওনি (ভাই) আমাকে দু-১টা কল দিয়ে লাইনে না পেয়ে ডিরেক্টলি মা’কে জানিয়ে দিল। আস্তে করে ১টা কল করে মলিন স্বরে বলছে
”বাবা সারা দেশে ভার্সিটির পোলা মায়ারা আন্দোলন করতাছে তুমি কিন্তু বাইরে যাইও না। আর বেশি সমস্যা হলে বাড়িত আইপরবা” 
বাইরে যাব না বলেই বুঝিইয়েসুজিয়ে রাখলাম।
১১-এপ্রিল২০১৮।
সকাল বেলা। যেন মায়ের অবাধ্য সন্তান হয়েই বেরিয়ে পড়লাম। নগরীর ২নং গেইট। বিশাল ছত্রসমাবেশ। যেন ২য় শাহবাগ। পুলিশ তাদের নিজ নিজ অবস্থানে সমরে সজ্জিত। যেন হুকিম পেলেই ঝাঝড়া করে দিবে কোটা আন্দোলনকারীর প্রতিটা দেহ। পুলিশ যখন চড়াও হয়ে এদিকে আসে, ছাত্ররা নো নো প্রতিবাদে রাস্তা ব্লক করে দিচ্ছে। এদের মাঝামাঝি দিক দিয়ে আমি ভিডিও করে যাচ্ছি।
আমার ভয় হচ্ছে না। ৫২’র লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আমি যেন সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি! হঠাৎ কল । মোশারফ হোসেন, বাংলাদেশ পুলিশ,চট্টগাম; “পুলিশ এখানে জলকামান নিয়ে রেডি, তোমার ডিউটি কোথায়? তারা কি আক্রমণ করবে?” কিন্তু হায়! সে কল রিসিভ করল না। উত্তর দুটো অজানা-ই রয়ে গেল!
আজ (১৩-০৪-১৮) আবার কল দিলাম অন্য একটা কাজে। নির্বাচনী কাজে ব্যস্থ থাকা সত্ত্বেও ঐ দিন কল ধরতে না পারার কারণটা ব্যাখ্যা করল এভাবে- “ দুস্ত ২নং গেইটে কোটা আন্দোলন চলছিল। এক পর্যায়ে উপর থেকে গুলি করার হুকুম আসছিল। আমরা তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। পরিস্থিতি সামাল দিতে যে কোন সময়ে গুলি করতে হতো। তাই তোমার কল ধরতে পারি নাই।“
---এটা জানার জন্যই কল দিয়ে ছিলাম। আমি ওখানেই ছিলাম। সে যেন আসমান থেকে পড়ল!
জলকামান, রাবার বুলেট, টিয়ারশেলের ত্রিমুখী আক্রমণে আমরা যখন চতুর্দিক দিয়ে এটাক করতাম তখন তোমার কি হত? আমি নিরব।
"বায়ান্ন, বাষট্টি, উনসত্তর, একাত্তরের শোষন, লাঞ্ছনা- বঞ্চনা, অত্যাচার-নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে আমার মতো ভার্সিটি পড়ুয়া একঝাঁক যুবক পরাধীনদেশে প্রাণ দিয়ে আজো অমর! অথচ বৈধভাবে ন্যায্য অধিকার আদায়ে স্বাধীন দেশে সরকারের পৃষ্টপোষকতায় লালিত বাহিনী দ্বারা আমাকে নিষ্পেষিত করা হবে এটা ত গোরবের ব্যপার। নিরব-নিস্তবদ্ধ-ভাষাহীন কণ্ঠে মায়ের অবাদ্ধ্য ছেলেটি হয়তো এই আন্সারটিই খুজতেছিল।
আমি কোন চিরকুট বুকপকেটে ধারণ করে ভাষা আন্দোলনে নামতে পারিনি; মা আমি শুধু কোটার দাবি নিয়ে নেমেছিলাম। আমায় ক্ষমা করে দিও.
Share:

No comments:

Post a Comment

Welcome To Strange Bd. A Complete Non-profitable Web Site and You people get your Better help from here. -Thanks

Translate

Here you can find different useful articles

Labels